সংসদে তথাকথিত বিরোধী দল গঠন নিয়ে নাটক
ডামি সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র-আওয়ামী, হাসিনা-সমর্থিত স্বতন্ত্র এবং নৌকা প্রতীকের ‘বাম’ মিলে ২৮৮ আসনেই হাসিনা-আওয়ামী-নৌকা। গৃহপালিত জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন, সেগুলোও হাসিনা-আওয়ামী লীগের দান করা, যেখানে নৌকাকে শেখ হাসিনার নির্দেশে তুলে নেয়া হয়েছিল। তো, সবই তাহলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দখলে বা দান করা (একটি আসনে নির্বাচন হয় নি)।
১১টি আসন পাওয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। তবে এটিও শেখ হাসিনার করুণার উপর নির্ভর করে ছিল। চলতি বুর্জোয়া সংবিধানে কত আসন হলে বিরোধী দল হবে তার নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। তবে শেখ মুজিব নিজে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দল সম্পর্কে বলেছিলেন, ২৫ জন না হওয়ায় তৎকালীন সংসদে বিরোধী দল করা যাবে না। এ কারণে সংসদে তখন বিরোধী দল ছিল না। একটি গ্রুপ ছিল মাত্র। এবার হাসিনা-আওয়ামী সংকট হয়েছিল তারা মুজিবের স্বপ্ন ও আদর্শ অনুযায়ী চলবে, নাকি তা থেকে সরে যাবে। শেষ পর্যন্ত হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলো। মুজিবের শিক্ষার কথা তাদের কেউ এখন আর বলছে না।
জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি নিয়ে সংকট হলো, তারা আগামীতে সরকারের সংকটের পরিস্থিতিতে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে পারে। সে অবস্থায় এই সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বর্ধিত সংকট উপস্থিত হতে পারে। তাই, ডামি স্বতন্ত্রদের নিয়ে জোট করে তাদের থেকে বিরোধী দল করার চিন্তাও হয়েছিল।
ফরিদপুর-৩ আসনের ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র সাংসদ’ একে আজাদ স্বতন্ত্র সাংসদদের নিয়ে একটি জোট করে বিরোধী দলের আসনে অভিনয় করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মত ব্যক্ত করেছিল যে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই তারা মেনে নেবে। অর্থ হলো, শেখ হাসিনাই বিরোধী দলটা বানিয়ে দেবেন। দিয়েছেনও তাই। যেমন কিনা তিনি মন্ত্রীসভা বানান, অবশ্য আগের সংসদ বিলুপ্ত হবার আগেই, যা কিনা তাদের নিজেদের সংবিধানের সাথেও সাংঘর্ষিক। বুর্জোয়া রাজনীতিবিদ ও আইনজ্ঞদের কেউ কেউ বলছে এটা সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহীতা।
এছাড়া স্বতন্ত্রদের দিয়ে বিরোধী দল হয় কিনা তা নিয়েও সাংবিধানিক সমস্যা ছিল। ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র লীগ’র প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। তারা আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিরোধী জোট করতেও ইচ্ছুক হয় নি। ক্ষমতা ও আর্থিক লাভটা কোথায় বেশি তা তারা ভালোই জানে। তবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নিদের্শে তারা এখন সরকারের ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি দিয়েছেন ঐ একজনই– শেখ হাসিনা।
এর সাথে যুক্ত হচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগাভাগি। প্রতি ৬ সাংসদের বিপরীতে ১ জন সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সাংসদ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত হবে। সেখানেও “আমি আর ডামি” মিলে নিরঙ্কুশ তারা।
সবাই তাহলে আওয়ামী লীগ– এ.টিম; আর অল্প কিছু আছে বি.টিম। একেই বলে আওয়ামী সংসদীয় গণতন্ত্র!
–২৪/০১/’২৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সংসদে তথাকথিত বিরোধী দল গঠন নিয়ে নাটক
ডামি সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র-আওয়ামী, হাসিনা-সমর্থিত স্বতন্ত্র এবং নৌকা প্রতীকের ‘বাম’ মিলে ২৮৮ আসনেই হাসিনা-আওয়ামী-নৌকা। গৃহপালিত জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন, সেগুলোও হাসিনা-আওয়ামী লীগের দান করা, যেখানে নৌকাকে শেখ হাসিনার নির্দেশে তুলে নেয়া হয়েছিল। তো, সবই তাহলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দখলে বা দান করা (একটি আসনে নির্বাচন হয় নি)।
১১টি আসন পাওয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। তবে এটিও শেখ হাসিনার করুণার উপর নির্ভর করে ছিল। চলতি বুর্জোয়া সংবিধানে কত আসন হলে বিরোধী দল হবে তার নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। তবে শেখ মুজিব নিজে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দল সম্পর্কে বলেছিলেন, ২৫ জন না হওয়ায় তৎকালীন সংসদে বিরোধী দল করা যাবে না। এ কারণে সংসদে তখন বিরোধী দল ছিল না। একটি গ্রুপ ছিল মাত্র। এবার হাসিনা-আওয়ামী সংকট হয়েছিল তারা মুজিবের স্বপ্ন ও আদর্শ অনুযায়ী চলবে, নাকি তা থেকে সরে যাবে। শেষ পর্যন্ত হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলো। মুজিবের শিক্ষার কথা তাদের কেউ এখন আর বলছে না।
জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি নিয়ে সংকট হলো, তারা আগামীতে সরকারের সংকটের পরিস্থিতিতে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে পারে। সে অবস্থায় এই সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বর্ধিত সংকট উপস্থিত হতে পারে। তাই, ডামি স্বতন্ত্রদের নিয়ে জোট করে তাদের থেকে বিরোধী দল করার চিন্তাও হয়েছিল।
ফরিদপুর-৩ আসনের ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র সাংসদ’ একে আজাদ স্বতন্ত্র সাংসদদের নিয়ে একটি জোট করে বিরোধী দলের আসনে অভিনয় করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মত ব্যক্ত করেছিল যে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই তারা মেনে নেবে। অর্থ হলো, শেখ হাসিনাই বিরোধী দলটা বানিয়ে দেবেন। দিয়েছেনও তাই। যেমন কিনা তিনি মন্ত্রীসভা বানান, অবশ্য আগের সংসদ বিলুপ্ত হবার আগেই, যা কিনা তাদের নিজেদের সংবিধানের সাথেও সাংঘর্ষিক। বুর্জোয়া রাজনীতিবিদ ও আইনজ্ঞদের কেউ কেউ বলছে এটা সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহীতা।
এছাড়া স্বতন্ত্রদের দিয়ে বিরোধী দল হয় কিনা তা নিয়েও সাংবিধানিক সমস্যা ছিল। ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র লীগ’র প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। তারা আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিরোধী জোট করতেও ইচ্ছুক হয় নি। ক্ষমতা ও আর্থিক লাভটা কোথায় বেশি তা তারা ভালোই জানে। তবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নিদের্শে তারা এখন সরকারের ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি দিয়েছেন ঐ একজনই– শেখ হাসিনা।
এর সাথে যুক্ত হচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগাভাগি। প্রতি ৬ সাংসদের বিপরীতে ১ জন সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সাংসদ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত হবে। সেখানেও “আমি আর ডামি” মিলে নিরঙ্কুশ তারা।
সবাই তাহলে আওয়ামী লীগ– এ.টিম; আর অল্প কিছু আছে বি.টিম। একেই বলে আওয়ামী সংসদীয় গণতন্ত্র!
–২৪/০১/’২৪
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র
